এই গরমে ঠান্ডা ও সর্দির থেকে দূরে থাকতে চান? তাহলে জেনেনিন আপনার কি করনীয়:


আবহাওয়া বদলের বিষয়টি নিশ্চয়ই টের পাচ্ছেন। এর সঙ্গে ঠান্ডা ও সর্দির প্রকোপ বেড়ে যায়। ঠান্ডা লাগা ও সর্দি থেকে দূরে থাকতে আগে থেকেই সাবধান থাকতে হবে। অনেকের ধারণা, বেশিক্ষণ ঠান্ডায় থাকলে বা পানিতে ভিজলে ঠান্ডা লাগে, সর্দি হয়। যদিও এসব রোগের প্রধান কারণ ভাইরাস, তথাপি বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

ঠান্ডার লক্ষণগুলি সাধারণত গলা ব্যথায় শুরু হয়, যা সাধারণত এক বা দু'দিন পরে চলে যায়। চতুর্থ এবং পঞ্চম দিন পর্যন্ত কাশি সহ অনুনাসিক লক্ষণ, সর্দি নাক এবং যানজট অনুসরণ করে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে জ্বর অস্বাভাবিক, তবে সামান্য জ্বর সম্ভব। বাচ্চাদের ঠান্ডা লাগার সাথে জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ভাইরাস নামক এক প্রকার জীবাণু বেশিরভাগ সর্দি-কাশির কারণ হয়ে থাকে। অনেক ধরণের ভাইরাস রয়েছে যা সর্দি লাগাতে পারে। আপনার কী ভাইরাস রয়েছে তার উপর নির্ভর করে আপনার লক্ষণগুলি পৃথক হতে পারে। সর্দি লাগার সাধারণ লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে: - জ্বর (100 ° F [37.7 ° C] বা তার বেশি) এবং শীতল হওয়া -হাইডাচ, ব্যথা পেশী এবং ক্লান্তি -কাশি - অনুনাসিক লক্ষণগুলি, যেমন স্টার্নিশ, নাক দিয়ে যাওয়া, হলুদ বা সবুজ নোট এবং হাঁচি দেওয়া -গলা ব্যথা

টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৫টি নিয়ম মানলে সর্দি-কাশি আপনার ধারেকাছে ঘেঁষতে পারবে না। জেনে নিন উপায়গুলো:

প্রচুর ভিটামিন ডি

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ভিটামিন ডির অভাব হয়, তাদের সর্দি-কাশিতে কাবু করে বেশি। শরীরে ভিটামিন ডি থাকলে তা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়তে সাহায্য করে। অনেক সময় শুধু খাবার থেকে যথেষ্ট ভিটামিন ডি পাওয়া যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত। এর বাইরে কিছুটা সময় সূর্যের আলোতে থাকা লাগতে পারে। সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টার মধ্যে সপ্তাহে দুই দিন কেউ যদি অন্তত ৫ থেকে ৩০ মিনিট সূর্যালোক গায়ে মাখে, তবে তা যথেষ্ট।

হাত পরিষ্কার রাখুন

আপনি অনেক সময় মুখে হাত দেন। ২০১৬ সালে করা এক গবেষণায় দেখা যায়, একজন ব্যক্তি প্রতি ঘণ্টায় অন্তত ১৬ বার মুখে হাত দেন। মুখে হাত দেওয়ার পাশাপাশি হাতে অনেক জিনিস ধরা হয়। এতে হাত থেকে মুখে সহজেই ভাইরাস যেতে পারে। সেখান থেকে মুখে বা শরীরে ভাইরাস যাওয়া অসম্ভব কিছু নয়। তাই পরিষ্কার করে হাত ধোয়া গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান ব্যবহার করে নিয়মিত হাত ধুয়ে নেবেন। তাহলে ঠান্ডা লাগা কমবে।

ফোন পরিষ্কার রাখুন

এখন প্রায় সবার হাতে মোবাইল ফোন পৌঁছে গেছে। একবার চিন্তা করে দেখুন, আপনার ফোন কোথায় কোথায় রাখেন। ২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের করা এক গবেষণায় দেখা যায়, টয়লেট সিটের চেয়ে ১০ গুণ বেশি জীবাণু থাকে মোবাইল ফোনে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, স্মার্টফোনের পর্দায় থাকা এসব জীবাণু ত্বকের রোগসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কারণ হতে পারে। এসব জীবাণু থেকে সর্দি-কাশি হতে পারে। তাই মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকুন।

জিংক গ্রহণ করুন

শরীরে জিংকের ঘাটতি হলে ভাইরাসের বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাই শরীরে জিংকের ঘাটতি হতে দেবেন না। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে জিংক ট্যাব খেতে পারেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞ মো. শরিফুল ইসলামের ভাষ্য, আমাদের শরীরে তিন শর বেশি এনজাইমের সঠিক পরিচালনের জন্য জিংক বা দস্তার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। প্রতিদিন আমাদের শরীরের জন্য ১৫ মিলিগ্রাম জিংকের প্রয়োজন হয়। গরু ও ভেড়ার মাংসে উচ্চমাত্রায় জিংক রয়েছে। সামুদ্রিক মাছ, গরু-খাসির কলিজা, আটা-ময়দার রুটি, দুগ্ধজাত খাদ্য, শিমজাতীয় উদ্ভিদ, মসুর ডাল, চীনাবাদাম, মাশরুম, সয়াবিন ও ঝিনুকে জিংক পাওয়া যায়।

দই খান

শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দরকারি কিছু ব্যাকটেরিয়া প্রয়োজন। ২০১৪ সালে ‘জার্নাল অব সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ইন স্পোর্টস’ সাময়িকীতে প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়, যেসব রাগবি খেলোয়াড় সম্পূরক খাবার হিসেবে প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেন, তাঁরা অন্যদের তুলনায় কম সর্দি–কাশি ও পেটের সমস্যায় ভোগেন। এ ক্ষেত্রে দই দারুণ কার্যকর। প্রোবায়োটিকস গ্রহণকারীদের সর্দি-কাশি খুব বেশি প্রভাব ফেলতে পারে না বলেই গবেষণায় দেখা গেছে।