থ্যালাসিমিয়া কি?


থ্যালাসিমিয়া হিমোগ্লোবিন ডিসঅডার জনিত একটি বংশগত রোগ-যা পিতা-মাতা থেকে সন্তানের মধ্যে জিনের মাধ্যমে প্রবেশ করে। থ্যালাসিমিয়া হলে রক্তশৃন্যতা দেখা দেয়, জন্ডিস হয়, যকৃত প্লীহা বড় হয়ে যায় এবং মুখমন্ডলের পর্রিবতন হয়।

থ্যালাসিমিয়ার প্রকারভেদ:

থ্যালাসিমিয়া অনেক ধরনের আছে,কিন্তু আমাদের দেশে দুই ধরনের থ্যালাসিমিয়া বেশি দেখা যায়।

১. বিটা থ্যালাসিমিয়া মেজর, বাংলাদেশে বাহক ৪.১% 

২. হিমোগ্লোবিন-ই-বিটা থ্যালাসিমিয়া, বাংলাদেশে বাহক ৬.১%

বিটা থ্যালাসিমিয়া মেজর শিশুর জন্ম: যখন পিতা-মাতা উভয়েই বিটা থ্যালাসিমিয়ার বাহক হয়।

হিমোগ্লোবিন-ই-বিটা থ্যালাসিমিয়া শিশুর জন্ম: যখন পিতা বা মাতার একজন বিটা থ্যালাসিমিয়া বাহক এবং অন্যজন হিমোগ্লোবিন-ই বাহক হয়।

থ্যালাসিমিয়া বাহক হলে কিভাবে জানবেন:

হিমোগ্লোবিন-ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগের বাহক এবং রোগীকে চিহ্নিত করা যায়।

থ্যালাসিমিয়া রোগীর খাদ্য:

যেহেতু থ্যালাসিমিয়া রোগীরদের রক্তে লৌহের পরিমাণ বেশি থাকে, তাই যে সমস্ত খাবারে কম পরিমাণ লৌহ আছে, সেই সমস্ত খাবার খাবে। যারা থ্যালাসিমিয়া বাহক তাদের খাবারে বিধি-নিষেধ নেই। তারা সব খাবার খেতে পারে।

সকলের জন্য পরামর্শ:

১.দেশের প্রতিটি নাগরিককে এই রোগ সম্পকে সচেতন করে তুলতে হবে।

২.যারা বাহক তাদের অন্য একজন বাহক রোগীকে বিয়ে না করা উচিত।কারণ, বিয়ে হলে থ্যালাসিমিয়া শিশুর জন্ম হবার সম্ভাবনা থাকে।

৩.যে বংশে থ্যালাসিমিয়া রোগী আছে, সেই বংশের লোকজনই বংশ পরম্পরা বহন করে, তাই সেই বংশের সবারই হিমোগ্লোবিন ইলেকট্রোফোরেসিস পরীক্ষা করে জেনে নেওয়া দরকার কারা এই রোগের বাহক কিংবা সুস্থ মানুষ।

Farjana Ferdaus

Adamjee Cantonment College

Author of Health_Pharma